Friday, January 24, 2014

অভাগা ও অভাগীদের কথা

যাদের বাবা নাই অথবা মা নাই এরকম কিছু অভাগাদের কথা কিছুদিন ধরে শুনে আসছি। তাদের কষ্টের কথা শোনার পর যতোদূর সম্ভব আমি মায়া করার চেষ্টা করি। শুধু আজকে নয়, অনেক আগে থেকেই এই চেষ্টাটা করি। তাদের জন্যে অনেককিছু করতে ইচ্ছা করে। যদি পারতাম, এই অভাগাদের পৃথিবীটা হাসিখুশিতে ভরে দিতাম। পারি কই?

আচ্ছা, যে ছেলে বা মেয়েটি আদর-ভালোবাসার অভাবে কষ্ট পায়, তাকে কী অন্য বাবা-মা আদর-ভালোবাসা দিয়ে দুঃখ ভুলাতে পারে না? রক্তের বন্ধন থাকলেই আদর-ভালোবাসা দিতে হয়? রক্তের বন্ধন না থাকলেও কী করা যায় না?

Thursday, January 9, 2014

নির্বোধ নিঠুর

নির্বোধ নিঠুর

রুমন আনাম

তরু ও তিথি প্রেম করে। ভালোবাসার ঢেউয়ে তারা একে অন্যের মাঝে হারিয়ে যায়। কিছুদিন পর তারা বিয়ের কথা ভাবে। তিথির পরিবারের লোকজন রাজি হয় না। শেষে তিথি পালিয়ে তরুকে বিয়ে করে। তারা নিজেদের মতো সংসার সাজাতে থাকে। কিন্তু, তিথির পরিবার কিছুতেই মেনে নেয় না। তরুর কাছ থেকে মেয়েকে আলাদা করতে তিথির মা শুরু করেন নানান অপকৌশল। তিথির ভালোবাসা পেয়ে সে সব সহ্য করে। এভাবে বছর গড়িয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত মা তিথিকে বুঝাতে সক্ষম হয়, তরুকে তার ছেড়ে আসা দরকার। তিথি তার বাবা মায়ের কাছে ফেরত যায়। মেয়ের সাপোর্ট আদায় করার পর মা এবার তরুর কাছ থেকে তিথিকে দূরে সরানোর পথে আরও সক্রিয় হয়ে পথ হাঁটা শুরু করে। তিথির মা তরুর কাছে ডিভোর্স চায়। তরু তিথিকে অনেক ভালোবাসে। তাকে ছাড়া সে ভাবতে পারে না। সে কিছুতেই রাজি হয় না। তিথি বদলে যায়। সে এখন আর তরুকে ভালোবাসে না। তার মা অন্যকোনো নতুন স্বপ্ন তার ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেই স্বপ্নের আশাতে সেও মুক্তি চায়। তরু তবু রাজি হয় না। এবার তিথিও মায়ের অপকৌশলে সমর্থন দিয়ে তরুকে ছাড়ার জন্যে সব করতে রাজি। তিথি একদিন তরুকে দেখতে চায়। তরু সব ভুলে শাহবাগ থেকে একগুচ্ছ ফুল কিনে দেখা করতে যায়। তরু অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক সময় পেরিয়ে গেলেও তিথি "আসছি" বলেও আসে না। কিছু সময় পরে আসে পুলিশ। তরুকে থানায় নিয়ে যায়। তরুর হাতের ফুলগুলি দেখার সৌভাগ্য তিথির হয় না।

Sunday, January 5, 2014

স্বার্থ থাকুক, স্বার্থপরতা নয়

জীবনের দিনলিপিতে স্বার্থ এক নির্মম সত্য। যারা অন্যের ক্ষতি করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করে শুধু তারাই স্বার্থপর নয়; আমরা সবাই। স্বার্থের দুইটা শাখা হলো, প্রতিদান ও তৃপ্তি সন্ধান করা। আমরা সবাই স্বার্থসন্ধানী। মরা গোলাপের চেয়ে তাজা গোলাপকে ভালোবাসি তার সৌন্দর্য ও সুবাস আছে বলে। কিংবা, কালো রমণীর চেয়ে ফর্সা রমণীকে ভালোবাসি তার উজ্জ্বল ত্বকের কারণেই। এগুলো তৃপ্তি উপভোগের স্বার্থ।

ভালোবাসাও স্বার্থের উপরে নয়। প্রেয়সীকে ভালোবাসার মধ্যেও স্বার্থ আছে। ভালোবেসে তার আনন্দিত মুখ দেখে শান্তি অনুভব করার স্বার্থ, তাকে কাছে পাবার স্বার্থ, অথবা ভালোবাসার বিনিময়ে ভালোবাসা পাওয়ার স্বার্থ। আমরা অনাহারীকে খাবার দিয়েও কিছু খুঁজি। কেউ পরকালের ভালো কিছু পাবার স্বার্থ খুঁজি, কেউ সমাজে নাম ডাকের স্বার্থ খুঁজি, অথবা মনকে শান্তি দেওয়ার স্বার্থ। স্বার্থ আমাদের জীবনের সাথে আছে ও থাকবে।

Wednesday, November 27, 2013

সমকামিতা ও আমাদের সমাজ

সমকামিতা হল সমলিঙ্গের মানুষের মধ্যে প্রেম, প্রণয় ও যৌন সম্পর্কের নাম। অর্থাৎ পুরুষের সাথে পুরুষের বা নারীর সাথে নারীর প্রেমের সম্পর্ককে বোঝানো হয়। সমকামি পুরুষ যুগল "গে" ও নারী যুগল "লেসবিয়ান" নামে পরিচিত। এই নামকরণের পেছনেও আছে ইতিহাস। সংক্ষেপে বললে, প্রথম দিকে যখন গে শব্দটি ব্যবহার করা হয় তখন এটি হাসিখুশি অর্থে বুঝানো হতো। পরবর্তীতে ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে লিসা বেন নামক একজন সম্পাদক এটি প্রথম ব্যবহার করেন। এরপর থেকে পুরুষদের সমকামিতার এই নামকরণ শক্তভাবে প্রতিষ্ঠা পায়।

Tuesday, November 12, 2013

রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন ও স্টাইল

রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন : পরিপাটি সাজগোজে তাঁর তুলনা হয় না

রবীন্দ্রনাথের ফ্যাশন ভাবনা জানতে গেলে মুগ্ধ হতে হয়লেখক হিশেবে রবীন্দ্রনাথ যেমন রুচিশীল ও আধুনিক; তেমনি ফ্যাশনেও অসামান্যনতুন নতুন ফ্যাশনেবল পোশাক তৈরি করে নিজে পরে হলেও তিনি ফ্যাশনেও খানিক অবদান রেখে গেছেন বলে আমি মনে করি রবীন্দ্রনাথ শুধু একা নন, ফ্যাশনের দিক থেকে পুরো ঠাকুরবাড়ি ছিল সমান্তরালভাবে অন্যন্য আধুনিক, সচেতন ও রুচিশীল

আমাদের আজকের সময়ে ফ্যাশনের ধরনধারণ, উপস্থাপন ও নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ, ফ্যাশন ডিজাইনারা অথবা গনমাধ্যমসেসময় কোনো ফ্যাশন হাউজ ছিল নাছিল ঠাকুরবাড়িঠাকুরবাড়ি মানেই ফ্যাশনে ও পোশাকে নিত্যনতুন বাহারের সমারোহসেই ফ্যাশন প্রভাব বিস্তার করেছে সমস্ত বাঙালির মধ্যেআমাদের এই সময়ে ঠাকুরবাড়ির ফ্যাশনগুলি ধরে রাখতে না পারলেও কিছু এখনো নিত্যদিনের সঙ্গীসত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী জ্ঞানদানন্দিনী দেবী ফ্যাশনের দিক থেকে ঠাকুরবাড়ির নারীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্ভাবনী মনের ছিলেনতিনি প্রথম চালু করেন শাড়ির সাথে ব্লাউজের ব্যবহার এবং কুঁচি করে শাড়ি পড়ার চলঅন্যসব বাদ দিলেও এই দুটি এখনো বাঙালি নারীর নিত্যদিনের সঙ্গী

Tuesday, November 5, 2013

চলো, জন্মের সাক্ষর রেখে ভালোবাসাময়ও মানবিক হই

আমাদের জীবনটা কেমন যেন প্রশ্নহীনভাবে গতানুগতিক। প্রশ্নহীন এই জন্যেই যে, আমরা কেন বাঁচি, কেন চলি, কি করি বা যা করি তা করা ঠিক কিনা এই নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে না। ফলে আমরা অধিকাংশরা প্রতিশ্রুতিহীন জীবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। জীবনের স্রোত আমাদের যেদিকে বয়ে নিয়ে চলেছে, সেদিকেই যাচ্ছি। মাঝে মাঝে কিছুটা এদিক সেদিক করে জীবন পথের দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করলেও বিস্তর পরিবর্তন ঘটিয়ে সার্থক ও মানবিক জীবনের দিকে ফিরে যাচ্ছি না। আমরা সবাই যেন আটপৌরে জীবনের মধ্যেই বন্দী। এই ধরণের জীবনকে আমরা সোজা ভাষায় বলি, খাওয়া, ঘুমানো, মল-মুত্র ত্যাগ করা, বাচ্চা জন্ম দেওয়া এবং শেষে মরে যাওয়ার জীবন।

Friday, October 25, 2013

ছড়ায় ছড়ায় বৃষ্টির কাছে আকুতি :: রুমন আনাম

ছড়ায় ছড়ায় বৃষ্টির কাছে আকুতি


আয় বৃষ্টি জোরে আয়
সব গোঁয়ারের মাথায় পর
গোঁয়ারগুলার মাথার ভূত
ধুয়ে মুছে সাফ কর।

আয় বৃষ্টি হটাৎ আয়
যখন তাদের বাড়ে বাড়
মুণ্ডুহীন পাগলাদের
দমকা ঝড়ের দে আছাড়।

ওরা দেখ মাথা খায়
দেশ খেতে চায়, খাবে মান
থাক বৃষ্টি সাথে থাক
সাথে থেকে বাঁচা প্রাণ।

বৃষ্টিতে স্বস্তি! আজকের বৃষ্টির কারণে রাজনীতি করা লোকগুলা মনের মতো গুণ্ডামি করতে পারছে না। এতে আমরা কিছুটা শান্তিতে থাকতে পারবো। তাদের স্বার্থেই তারা আন্দোলন করে বা অন্যকে আন্দোলন করতে দিতে চায় না। এইসব ভুজুং ভাজং আমাদের জন্যে নয়। ওহে প্রকৃতি, এভাবে সহায় হও।

Thursday, October 10, 2013

গ্রামীণ ব্যাংক এনজিও নয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান

গ্রামীণ ব্যাংক

গ্রামীণ ব্যাংক এনজিও নয় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান

গ্রামীণ ব্যাংক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান হলেও একে অনেকেই এনজিও বলছেন। বর্তমানে সাদাচোখে এনজিও বলতে যে ফরম্যাট বোঝায় তার মধ্যে গ্রামীণ ব্যাংক নীতিগতভাবেই পড়ে না। আমরা দেখছি দেশি-বিদেশি অনেক এনজিও আছে যারা সম্পূর্ন অলাভজনক কাজকর্ম করে থাকে। কিন্তু গ্রামীণ ব্যাংকের এমন কোনো আহামরি অলাভজনক কার্যক্রম নেই যাতে একে এনজিওর মর্যদা দেওয়া যেতে পারে। গ্রামীণ ব্যাংক যদি তার কাগজপত্রে একে এনজিও বলে, তবে তার আইনগত ভিত্তি থাকলেও নীতিগত ভিত্তি নেই।

Friday, October 4, 2013

ছোটগল্প :: রাস্তা

রুমন আনাম এর ছোটগল্প

রাস্তা



স্বভাবের দিক থেকে আবুল মিয়া খুব সাধসিধে। বুদ্ধিতেও খুব ঢিলা প্রকৃতির। কাজকর্মে ছন্দ নাই। এই অল্প বুদ্ধির মানুষটাকে সবাই পাগল বলে। রাস্তায় চলার সময় দুষ্টু বুদ্ধির লোকেরা তাকে খোঁচা দেয়। সে ক্ষেপে যায়। তার ক্ষেপে যাওয়া দেখে ওরা আনন্দ পায়। খানিক বাদে শান্ত হয়ে আবারো পথ চলতে থাকে। বিয়ের পর আবুল মিয়ার চলাফেরাতে গা বাঁচিয়ে চলা লক্ষ করা গেলো। যে মেয়েটিকে সে বিয়ে করলো, সে অতিশয় বুদ্ধিমতি মেয়ে না হলেও আবুল মিয়ার অল্পবুদ্ধি দেখে সে যেন চতুর এক নারীর রূপ নিল। আবুল মিয়া ভুল করতে পারে বলে তার চলাফেরা আবুল মিয়ার বউ নিয়ন্ত্রণ করতে লাগলো। এরপর থেকে আবুল মিয়ার ভুল অনেক কমে গেলো। সে গোছালো মানুষ হয়ে না উঠলেও তার মধ্যে একটা সাবধানী ভাব দেখা গেলো। আবুল মিয়ার বউয়ের এই অবস্থান দেখে অনেকেই তাকে চালু মেয়ে বলে আখ্যা দিলো। তারা এটাকে ভালোভাবে নিলো না। কেউ কেউ আবুল মিয়ার বউকে সাধুবাদ জানালো। তারা মনে করলো, "আবুল মিয়া পাগল মানুষ, বউ এমন না হলে সংসার টিকবে না।"

Wednesday, September 11, 2013

শিল্পীর দায়বদ্ধতা এবং ঠেলাঠেলি করে শিল্পী হওয়া

এই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে রবীন্দ্র সঙ্গীত নিয়ে আমার একটা কর্ম আছে। সেখানে বাংলাদেশ ও ভারতের অনেক মানুষের আনাগোনা। তো, কলকাতার এক তরুণ রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী নিজের গাওয়া গান নেটে এতোটা ছড়াতে চান যে, এই প্রদর্শনবাদী মানসিকতা দেখে তাঁকে ভীষণ দরিদ্র মনে হয়। নিজের বদনখানা সবখানে জুড়ে দেন। এতে তাঁকে আরও অগ্রহণযোগ্য মনে হয়। ফলে, আমি তাঁর কোন গান শেয়ার দেই না।

Monday, September 9, 2013

আমরা কি আসলেই আলাদা (different)?

আমাদের এই জীবনকে ছোট অথবা বড়ো যেটাই বলি না কেন, নিজেকে নিয়ে ভাবনার শেষ নেই। আমরা বেশিরভাগ মানুষ নিজেদেরকে অন্য সবার থেকে আলাদা (Different) ভাবনার বলে দাবী করতে পছন্দ করি। আমরা কি সত্যি আলাদা ভাবনার? আমরা কি আমাদের নিজের তৈরি ভাবনার চর্চা করি?

প্রকৃত অর্থে আমরা যাকে নিজের ভাবনা বলি, তাও এই সমাজ থেকে নেওয়া। মূলত সমাজের বহু ভাবনা বা পন্থাগুলি থেকে যেটা বেশি পছন্দ হয়, সেটা আমরা গ্রহণ করি মাত্র। এই ভাবনাগুলি কেউ না কেউ উদ্ভাবন করেছে বলেই আমরা পেয়েছি। সুতরাং এটাই নিজের ভাবনা নয়। আর, একেবারে নিজের সৃষ্টি করা ভাবনায় চলা সম্ভব কি না, সেটা বলা কঠিন।

Wednesday, August 14, 2013

শিশুতোষ ছড়া : দাদু মাস্টার

দাদু মাস্টার

রুমন আনাম

একচোখ ঘোলাটে
একচোখ ট্যাঁরা
টাকপড়া মাথাটা
মনে হয় ন্যাড়া।

গোল গোল ভুঁড়িটা
মনে হয় ঢোল
রোজ খান দুবেলা
মুরগির ঝোল।

নাক ডাকে ঘুমালে
ঘড় ঘড় ঘড়
সারাদিন চেঁচাবে
পড় পড় পড়।

পড়া হলে রাখত
সব আবদার
এই হলো আমাদের

দাদু মাস্টার।